Bengali Poems

Read Bengali poems & short stories by Rina Ghosh. Please feel free to comment on the posts.

দশেরার ঝুলন



        অবাক হয়ে গেলে নিশ্চয়ই ! ভাবছ এ আবার কেমনতর ঝুলন ? দুর্গাপুজায় আবার ঝুলন হয় নাকি ? না , আমরা যে অর্থে ঝুলন বুঝি ঠিক সেই অর্থে না হলেও ঝুলনে সাজানো পুতুল নিয়ে একটি উৎসব হয় দশেরাতে যারা কর্ণাটকে থাকেন তাঁরা জানেন এটি কর্ণাটকের একটি জনপ্রিয়  উৎসব । এখানে মহালয়া অমাবস্যা থেকে শুরু হয়ে যায় এই পুতুল উৎসবটি, অনেকটা আমাদের ঝুলনের মত । ওঁরা বলেন  “বম্বে  হাব্বা”বম্বে মানে পুতুল আর হাব্বা মানে উৎসব, Festival ,এটি চলে দশমী অবধি ।  
     ছোট, বড় নানা আকারের নানা ধরণের পুতুল প্রায় সবার ঘরে ঘরেই সাজানো হয় এইসময় তবে একটা খুব interesting ব্যাপার আছে পুতুল রাখার ব্যাপারে ।  
তাক বানিয়ে পুতুলগুলোকে তার ওপর রাখতে হয় । এই  তাকগুলো  ৫ বা ৭ বা ৯ টি হতে হবে, মানে বেজোড় সংখ্যায় হওয়া জরুরী
 আবার এই পুতুলের মধ্যে একটি রাজা-রানী পুতুল , একটি পিতল বা রুপোর জল ভরা কলসী , ৯ রকমের আনাজ শস্য আর তার পাশে একটি বনিক-দম্পতি পুতুল রাখা আবশ্যক । যেমন আমরা ঝুলনে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি রাখি । 
এছাড়া  নানান দেবদেবীর মূর্তি, খেলনা, হাতি, ঘোড়া, গাড়ী, মানুষ-পুতুল সেখানে স্থান পায় । রোজ সন্ধ্যেয় পুজো হয়, প্রসাদ বিতরণ হয় । এক্কেবারে আমাদের ঝুলনের মত ।
                এই ‘বম্বে হাব্বা’কে ঘিরে একটি  চমৎকার গল্প  আছে । শুনবে ? পুরাণে কথিত আছে যে মহিষাসুর এত প্রচণ্ড শক্তিশালী ছিল যে যুদ্ধের সময় দেবী দুর্গা যখনই তাকে বধ করার জন্য আঘাত করছিলেন , তার ক্ষতস্থান থেকে গড়িয়ে পড়া প্রতিটি রক্তবিন্দু মাটিতে স্পর্শ করা মাত্রই এক একটি মহিষাসুরের জন্ম নিচ্ছিল । বাধ্য হয়ে দেবী  পৃথিবী–বাসীদের সাহায্য চাইলেন ।
মনুষ্য থেকে শুরু করে পশুপক্ষী , পোকামাকড় , জলজ প্রানী প্রত্যেকটি জীব দেবীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের নিজেদের  প্রানশক্তি মা দুর্গাকে দান করে আর অসাড় মূর্তিতে পরিণত   হয়ে যায় । তাদের দেওয়া এই শক্তি নিজের শক্তির সঙ্গে মিলিয়ে নেবার ফলে দেবী  দুর্গা মহিষাসুরের থেকে ত্রিগুণ শক্তিশালী হয়ে যান এবং নবমীর রাতে তিনি  যেই অসুরকে বধ করেন পর মুহূর্তেই  সেই সব অসাড় মূর্তিতে প্রাণ ফিরে আসে ।  
তারা আবার পুনর্জীবিত হয়ে ওঠে । সেইজন্য দশমীর দিন সব পুতুলগুলো তুলে ফেলা হয় । তারা তো তখন আর পুতুল বা অসাড় মূর্তি থাকেনা ! পুতুলগুলো আবার যত্ন করে বাক্সে গুছিয়ে রাখা হয় । কাগজে মোড়া চাদরে মুখ ঢোকাবার আগে তারা নিশ্চয়ই বলে যায় , “আসছে বছর আবার হবে’’ !! বলে নিশ্চয়ই ! কি বল ?
                                  

বয়স




মুকুরে মুখ দেখিনি কখনো-
ছিনু উদ্দাম গরবিনী , দর্প আমার সীমাহীন,
পদপিষ্টে দলিত করেছি চরণে রাখা ফুল ,
তোমার যন্ত্রণায় ছিনু আমি চরম উদাসীন ।
আজ আমার অজস্র ভাঙ্গাচোরা অশীতিপর মুখে
তোমার জন্য দীর্ঘ হাহাকার –
জরাজীর্ণ কাঁপা কাঁপা হাত
        খুঁজে পেতে চায় পরশ তোমার
ক্ষীণ আঁখিতে চলে আসে অশ্রু বারংবার ।

আহ্বান



জীবন,
তুমি মদির মোহক গন্ধ নিয়ে
মোর চেতনায় এসো
        স্পর্শ কোরো মন –
আমি কস্তুরী হয়ে যাবো ।
বাস্তব,
তুমি সবুজ ঘাসের মুক্তাঙ্গনে
নগ্ন পায়ে হেঁটো
      নূপুর পায়ের পরশ –
আমি শিশির হয়ে যাবো
স্বপ্ন,
তুমি সুমেরুর শ্বেত প্রান্তরে
হিমধারা হয়ে নেমো
       সফেন তুলোর স্নান –
আমি তুষার হয়ে যাবো ।
যন্ত্রণা ,
তুমি অচেতনার দ্বার দিয়ে
চৈত্রের হাওয়া হয়ে এসো
        উড়িয়ে দিও মন –
আমি পলাশ হয়ে যাবো ।
সুখ,
তুমি নীরব রাতের কুহকতায়
চন্দ্রিমা হয়ে ভেসো
       রুপোলী আলোর জোয়ার –
আমি পূর্ণিমা হয়ে যাবো ।
কামনা,
তুমি ঝিনুক প্রবাল মুকুট পরে
ঢেউয়ের সঙ্গে  নেচো
       ফেণায় ফেণায় মিশে –
আমি সাগর হয়ে যাবো ।
কান্না,
তুমি কৃষ্ণঘন মেঘের থেকে
বৃষ্টি হয়ে ঝোরো
       বারিধারার স্রোতে –
আমি নদী হয়ে যাবো ।
তৃষ্ণা ,
তুমি রঙ্গিন পাখা মেলে দিয়ে
বলাকার  মত ভেসো
       সূর্য তোরণ দিয়ে –
আমি আকাশ হয়ে যাবো ।
আর প্রেম,
তুমি কুবেরের ঐশ্বর্য নিয়ে
আমার দ্বারে এসো
        উজাড় কোরো ঝুলি –
আমি ফকির হয়ে যাবো ।

ছোট হতে চাই


বড় হবার মজা অনেক
         ছোটবেলায় ভেবেছি ,
দূর কলেজে পড়তে যাবো
       এই রোমাঞ্চে কেঁপেছি ।
‘এটা কোরোনা’ , ‘ওটা করো’
        বাবা তো আর বলবে না ,
‘কাঁচকলাটা’ খাস নি কেন’
        মা ঘ্যানঘ্যান করবে না ।
বড় যখন হয়ে গেলাম
         দূরে পড়তে এসেছি
খুঁজছি এখন মজা কোথায়
         সব হারিয়ে ফেলেছি ।
আজ খেতে চাই সে কাঁচকলা
        মায়ের হাতের রান্না  ,
সুখদুঃখে ভাই কাছে নেই
        পায় যে শুধু কান্না ।
বাবার সে ডাক ‘ও মামনি’
        কানের কাছে শুনতে পাই,
ও ভগবান , এখন আমি
         আবার ছোট হতে চাই ।

অপেক্ষা


আমার  সকল  নিয়ে  বসে  আছে
       সে  যে  আমার  প্রাণের  সই,
তাঁর  প্রেমেরই  মহুয়াফুলের
      বেহুঁশ  নেশায়  মাতাল  হই ।
তাঁর  চাওয়াতেই  কৃষ্ণচূড়া
      রাঙ্গিয়ে  দিল  অবুঝ  মন,
তাঁরই  আশায়  পায়ের  নুপুর
      উঠলো  বেজে  ছনন  ছন ।
তাঁর  হাওয়াতেই  দোলে
      হৃদয়  বৃন্তে  ফোটা  লাল  কুসুম,
তাঁর  ছোঁয়াতেই  জাগল  রবি
     ভেঙ্গে  রাতের  নিঝুম  ঘুম ।
তাঁর  তালেতেই  মেলে পাখা
     নাচল  উদাম  বন –ময়ূর,
তাঁর  ইশারায়  গাইল  পাখী
     নাম-না-জানা  অচিন  সুর  ।
আসবে  কখন  সেই  প্রিয়  সই
      আমার  মনের জানলাতে,
অপেক্ষাতে  দিন  কেটে  যায়
      ঘুম  আসেনা  রোজ  রাতে ।